সুনসং পাড়ার নিরীহ গ্রামবাসীকে উক্ত ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেদম প্রহারের পর হাত-পা ভেঙে হত্যা করেছে

গত ৫ তারিখে লালরামসান বম (৩২), পীং: তোয়ারথন বমকে সুনসংপাড়া ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিজ গ্রাম সুনসং পাড়া থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে ৫দিন ধরে নিখোঁজের পর আজ ক্যাম্পের ভেতেরই তাঁর মৃত লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রুমা সেনা জোনে তাকে রাখা হয়েছে। তবে আজ রবিবার তার লাশ সুনসংং পাড়া ক্যাম্পের ভেতরেই খোঁজ মিলেছে।
উল্লেখ্য, ১রা ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সুনসং পাড়া থেকে কেএনএ সদস্য অভিযোগ এনে পালেক ম্রোকে নিয়ে সুনসং পাড়া ক্যম্পে নিয়ে যায়। অত্র ক্যম্পে ১ দিন ১ রাত বন্দী রাখার পর উক্ত পাড়া কারবারিকে ডেকে বলা হয় লালরামসান বম তথা পালেক স্ত্রীর ভাই (শ্যালক) তাকে ক্যম্পে আনা হলে পালেক ম্রোকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ক্যাম্প কমান্ডার আশ্বাস দেন। যেহেতু লালরামসান বম তার কোন দোষ বা তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় একজন নিরীহ গ্রামবাসী হিসেবে তিনি ক্যাম্পে স্বেচ্ছায় দেখা করতে চলে যান। তারপর ক্যাম্প থেকে বাসায় ফিরতে দেওয়া হয়নি। বরং তাকে রুমা জোনে প্রেরন করার নামে তাকে হাত-পা বেঁধে বেদম মারধর সহ তাঁর হাত-পা নির্মমভাবে ভেঙ্গে দিয়ে হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য যে, সুনসং পাড়ার ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আরেফাত-এর নেতৃত্বে এই হত্যাকান্ড পরিচালিত হয়েছে।
আমরা এহেন নির্মম হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সহ সুবিচার দাবী করছি।

এই নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক, ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। একজন নিরীহ গ্রামবাসীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এভাবে দিনের পর দিন নিখোঁজ রাখা, ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা এবং শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পের ভেতরেই মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন। পরিবার ও স্বজনরা প্রতিটি মুহূর্তে প্রিয়জনের ফেরার আশায় অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে পেয়েছেন নিথর দেহ—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি স্পষ্ট। একদিকে বলা হয়েছে তাকে রুমা সেনা জোনে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে তার লাশ পাওয়া গেছে সুনসং পাড়া ক্যাম্পের ভেতরে। এই পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রমাণ করে যে সত্য গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়।

লালরামসান বমের পরিবারের সদস্যরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা শুধু প্রিয়জন হারাননি, বরং ন্যায়বিচার চাওয়ার সাহস দেখালে ভবিষ্যতে আরও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তার যে মৌলিক অধিকারগুলো ছিল—জীবনের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার—সবকটিই নির্মমভাবে পদদলিত করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি পাহাড়ি অঞ্চলে চলমান নিপীড়ন, ভীতি প্রদর্শন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ। যদি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত না হয় এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও নিরীহ মানুষ একই পরিণতির শিকার হতে পারে।

অতএব আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাই—এই হত্যাকাণ্ডের একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে, অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে এই ক্ষত সমাজের বিবেককে দীর্ঘদিন রক্তাক্ত করে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *